স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৫৮
রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো করোনাভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিকেল চারটার কিছু পর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স মিজ কস্তাকে টিকা প্রদানের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কস্তার সাথে কুশল বিনিময় করেন। শেখ হাসিনা কস্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ভয় পাচ্ছ না তো। জবাবে কস্তা বলেন, ‘জ্বি না’।
পরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আরো চারজনকে টিকা প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানাসহ আরো একজন ডাক্তার একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।
এদিকে দেশে গত কয়েকদিন ধরে নানা জন নানারকম সংশয়ের কথা জানিয়েছে ভারত থেকে আসা এই করোনাভাইরাস টিকাকে ঘিরে। এমনকি বিরোধী বিএনপির তরফ থেকেও দাবি জানানো হয়েছিল, সংশয় দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর উচিত প্রথম টিকা নেয়া।
এসব সংশয়ের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ একটি জরিপ চালায় যেখানে দেখা যায়, দেশের ৩২ শতাংশ মোটে মানুষ টিকা কার্যক্রম শুরুর সাথে টিকা নিতে আগ্রহী। ৫২ শতাংশ আগ্রহী, কিন্তু এখনই নয়, তারা দেখে শুনে পরে নিতে চান।
কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কোভিশিল্ড নামের যে টিকাটি বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে, এ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন অন্য সব ভ্যাকসিনের তুলনায়।
আর শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য হলো কিছু কিছু লোক থাকে যারা সবকিছুতেই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।
অন্যদিকে, কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মোট ২৫ জন মানুষকে টিকা প্রদান করা হবে বলে কথা রয়েছে।
এদের মধ্যে ডাক্তার, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক এবং আরো কয়েকটি পেশার মানুষ। তবে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে প্রথম পর্যায়ের বাদবাকি যাদের টিকা দেয়া হবে তাদের সবাইই করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের সাথে সম্পর্কযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী।
যে টিকাটি তাদের দেয়া হচ্ছে, সেটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত এবং ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড নামের টিকা।
এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড মজুত করা হয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে ২০ লাখ ডোজ এসেছে গত ২১ জানুয়ারি ভারতের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে। আর বাকি ৫০ লাখ ডোজ এসেছে সিরাম ইনস্টিটিউটের সাথে ক্রয়চুক্তির অংশ হিসেবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে কয়েকদিন ধরে ঢাকার চারটি হাসপাতালে শ পাঁচেক মানুষকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা প্রদান করা হবে, এদের সবাই স্বাস্থ্যকর্মী। বাকি তিনটি হাসপাতাল হচ্ছে - উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই মানুষগুলোকে এরপর থেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
আর পুরোপুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। শুরুতেই পাবেন সম্মুখ সারিতে থাকা বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। পাশাপাশি ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সের ব্যক্তিরাও টিকা নেয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে এজন্য সুরক্ষা নামের একটি (https://www.surokkha.gov.bd/) একটি ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। পরবর্তীকালে মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা নেয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়, তবে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com