স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১৪ জুন ২০২১, ১৮:৪৬
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত কার্যাবলীর কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর হলে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চিরতরে ধ্বংস হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব দলের অবস্থান জানতে গিয়ে একথা বলেন। গত শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যাবলীর কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সংবাদ যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যাবলী ইতিপূর্বে নির্বাচন কমিশন দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে যারা কমিশনের দায়িত্ব পালন করছেন, তারা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলেও কমিশন সংবিধান অনুযায়ী একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।’
তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করার কথা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের অধীনে মন্ত্রণালয়। বিগত এক যুগের অভিজ্ঞতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অনির্বাচিত সরকারের ক্রীড়নক হিসাবে কাজ করছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে।’
এসময় বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কতৃত্ব হস্তান্তর করা হলে তা স্বাধীন নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নূন্যতম সম্ভাবনাটুকুও বিনষ্ট করবে। সভা মনে করে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হলে তা ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের নূন্যতম পরিসরকেও ধ্বংস করবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে চিরতরে ধ্বংস করবে।’
সভা অবিলম্বে এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায় এর নেতিবাচক প্রভাবের জন্য সরকারকেই সকল দায় দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট করোনা ভাইরাস ভীতিকর ভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১২টি জেলায় এর সংক্রমণের হার শতকরা ৫০ ভাগ ছড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর হারও বেড়েছে। ক্রমশ এই ভাইরাস সারা দেশে তৃতীয় ঢেউ সৃষ্টি করছে। জেলাগুলোতে পর্যাপ্ত টেষ্ট এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারন করছে। সেই সঙ্গে জেলা হাসপাতাল গুলোতে প্রয়োজনীয় বেড, অক্সিজেন ও আইসিইউ না থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিএনপি ইতিপূর্বেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছিল কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবের শুরু থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক করেছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কিন্তু সরকারের দূর্নীতি, অযোগ্যতা, উদাসীনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। চুক্তিকৃত ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে না পারা, বিকল্প উৎসের সন্ধান না করা, দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের জন্য ভ্যাকসিন উৎপাদনের কোনো উদ্যোগ নিতে না পারা তাদের দূর্নীতি ও অযোগ্যতার জন্য সার্বিক ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে এবং সমগ্র জাতিকে আজ বিপন্ন করেছে। বারবার বলা সত্ত্বেও তারা জনগণের সামনে কোনো স্পষ্ট রোড ম্যাপ প্রদান করতে পারেনি। অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর দূর্নীতিতে যুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com