স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ০৭ আগস্ট ২০২১, ২১:১৩
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শ্রাবণ্য তৌহিদা। একাধারে মডেল, উপস্থাপক, অভিনেত্রী ও চিকিৎসক। ক্রীড়াবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কথা বলছেন কর্ম ও জীবনাচরণের নানা দিক নিয়ে। একান্ত সাক্ষাৎকার।
গত ঈদে আপনার অভিনীত তিনটি নাটক প্রচার হয়েছে। কেমন সাড়া পেলেন?
অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। আমি যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি।
তার মানে নাটককেন্দ্রিক ব্যস্ততা বাড়ছে?
তা সম্ভব না। আমার একটা প্রফেশন আছে। ডাক্তারির পাশাপাশি অভিনয় করি। প্রফেশন ধরে রেখে যতটুকু সমন্বয় করা যায়।

ডাক্তারি, উপস্থাপনা ও অভিনয়ের সমন্বয় কীভাবে করেন?
সময় কম পাই। এজন্যই অভিনয় কম করি। শুধু উপস্থাপনাটাই করি। আমার কাছে মনে হয়, যেকোনো কাজ করলে ভালো মতো করা উচিত। অভিনয়ের জন্য অনেক আগেই ডাক পেয়েছি। করা হয়ে ওঠেনি। সবাই বলত, সবসময় না পারলেও ঈদে কিংবা ভ্যালেন্টাইনস ডেতে যেন কাজ করি। এজন্যই আমার ভক্তদের জন্য এ কাজগুলো করা।
যেহেতু কমসংখ্যক কাজ করবেন, এক্ষেত্রে কোন বিষয়টাকে প্রাধান্য দেবেন?
অবশ্যই স্ক্রিপ্ট ও গল্পটা আমাকে টানতে হবে। এছাড়া পরিচালনা কে করবেন, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভক্তদের জন্য চলচ্চিত্রে হাজির হবেন না?
এটা বলতে পারছি না। চলচ্চিত্রের অফার বহুবার পেয়েছি। কিন্তু রাজি হইনি।

কারণ?
কারণ আমার পছন্দের ক্যারেক্টার পাইনি। গল্প পছন্দ হলে, পরিচালক পছন্দ হলে অবশ্যই চলচ্চিত্রেও দেখা যাবে আমাকে।
আপনি তো খেলার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কবেকার?
অনেক ছোটবেলা থেকেই। আমি অনেক স্পোর্টি, খেলাধুলা পছন্দ করি। ছোটবেলায় খেলাধুলা করতাম। এখনো করি। আমাদের বাসায় সবাই খেলাধুলা পছন্দ করে। সেটা থেকেই আগ্রহ জন্মায়। শো করি বলেই খেলার আপডেট রাখি তা নয়। অন্য সময়েও খেলার আপডেট রাখি।
বাড়ি আঙ্গিনায় ক্রিকেট খেলতেন?
হ্যাঁ, আমার ভাইদের সঙ্গে বাগানে ক্রিকেট খেলতাম।
ছোটবেলায় যখন খেলতেন কিংবা খেলা দেখতেন, কখনো মনে হয়েছে একদিন আপনি খেলা নিয়ে টিভিতে অনুষ্ঠান করবেন?
না, আমি এটা কোনো দিন মনে করিনি। কখনো ভাবিওনি।
প্রিয় খেলোয়াড় কে?
বাংলাদেশে সাকিব আল হাসান, ক্যাপ্টেন হিসেবে মাশরাফি। দেশের বাইরে শচীন টেন্ডুলকার প্রিয় ছিলেন। এখন তো তিনি খেলেন না। বিরাট কোহলির খেলা ভালো লাগে এখন। সবচেয়ে ভালো লাগে নিউজিল্যান্ডোর ক্যাপ্টেন কেন উইলিয়ামসনকে।
আপনি একজন ডাক্তার, উপস্থাপক, মডেল, অভিনেত্রী ও ক্রীড়া বিশ্লেষক। এত গুণ! কোন গুণটা নেই আপনার?
হা হা হা (হাসি), আমার আরো অনেক গুণ আছে, যেগুলো আপনি জানেন না।

জানতে চাই।
আমি কিন্তু দুষ্টুমি করছি। তবে সত্যি, আমি অনেক ভালো রান্না করি। অনেক ভালো লিখি। আমি ছোটবেলায় অনেক কিছুই করতাম। আমি নাচতাম। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হোস্টিং করতাম। ছোটবেলা থেকেই ক্লাসে ফার্স্ট গার্ল ছিলাম। মেডিকেল কলেজেও ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ডের মধ্যেই থাকতাম। মেডিকেলে সেকেন্ড প্রফ পরীক্ষায় পুরো বোর্ডে রেকর্ড পরিমাণ মার্ক নিয়ে পাস করি। তবে যদি জানতে চান কোন গুণটি নেই আমার, তবে আমি বলব, মিথ্যা বলার গুণ নেই আমার। ছলনা করার গুণ নেই। আমি কোনো দিন কারো অপকার করিনি। আমি কারো উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করি না। এটা আমার একটা দর্শন।
একাডেমিক পড়াশোনায় আপনার দখলের কথা শুনলাম। একাডেমির বাইরে কার বই পড়তেন? প্রিয় বইয়ের নাম যদি চানতে চাই?
আমি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অনেক বড় ভক্ত। হুমায়ুন আহমেদের প্রায় সব বই পড়া। ম্যাক্সিম গোর্কির মা অনেক প্রিয় একটা বই। কোথাও কেউ নেই, অপেক্ষা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো আমার প্রিয় বই। শীর্ষেন্দুর দুরবিন, পার্থিব আমার অনেক প্রিয়।
ভালো রান্না করেন বলছিলেন। প্রিয় রান্নার আইটেম কোনটা?
আমি সব ধরনের রান্না করতে পারি। তবে আমার রান্না করা গরুর মাংস ভুনা, হাঁসের মাংস ভুনা, ভুনা খিচুড়ির ভক্ত সবাই। এছাড়া আমি প্রায় সবই রান্না করতে পারি। আমাদের পরিবারে রান্নাটা শিল্পের পর্যায়ে আছে। কেননা আমার বড় বোন অনেক বড় শেফ, মা ভালো রান্না করেন। আমার হাতের খেজুর গুড়ের পায়েসটা সবাই খুব পছন্দ করে।

এসব রান্না শিখলেন কীভাবে?
আমি প্রফেশনালি কোথাও রান্না শিখিনি। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় পর্যন্ত আমি রান্নার ‘র’ও জানি না। আমার কাছে মনে হয়, ভালো রান্না করতে চাইলে কমনসেন্স আর আইকিউ থাকতে হবে। আমি প্রথম রান্না করেছি শ্বশুরবাড়ি গিয়ে। তখন রান্নার আগে বোনকে ফোন দিতাম। তার থেকে টিপস নিতাম। ইউটিউবে ভিডিও দেখতাম। ভিডিও দেখে নিজের মতো করে রান্না করে ফেলতাম।
উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজেকে পরিপাটি রাখতে হয়। প্রসাধনীর ক্ষেত্রে কোন দিকটা গুরুত্ব দেন?
অবশ্যই খুবই ভালো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করতে হয়। আমি এক্ষেত্রে এসটে লওডার, ম্যাক, লরা মারসিয়ার বেশি ব্যবহার করি।
প্রিয় পোশাক?
সব ধরনের পোশাকেই আমি কমফোর্টেবল। তবে শাড়ি আমার প্রিয় হলেও কম পরা হয়। উৎসব ছাড়া শাড়ি পরা হয় না।
ছোটবেলার অনেকের সংগ্রহের শখ থাকে। আপনার ছিল এমন?
হ্যাঁ, আমি কয়েন কালেকশন করতাম। আমার কাছে বিভিন্ন দেশের অনেক কয়েন ছিল। এখন পারফিউম কালেকশন করি। আমার কাছে বিভিন্ন দেশের অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের পারফিউম আছে।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com