বশেমুরবিপ্রবিতে সপ্তম দিনেও আন্দোলনে অটল শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে সপ্তম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন হল ও হলের বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের একের পর খণ্ড খণ্ড মিছিল ক্যাম্পাসে আসে।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ভিসির নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন।
সোমবার রাতেও ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করায় উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব না। যতদিন পর্যন্ত না এ দুর্নীতিবাজ উপাচার্য পদত্যাগ করবে আমরা এখানেই অবস্থান করব।
প্রসঙ্গত ভিসি নাসিরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের সূত্রপাত হয় একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে।
এর মধ্যে জিনিয়া ও ভিসির কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ওই ছাত্রীকে বকাঝকা ও হুমকি-ধমকি দিতে শোনা যায় উপাচার্যকে। মেয়েটির বাবাকে নিয়েও তির্যক মন্তব্য করেন তিনি। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বুধবার জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পর দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৪টি বিষয় মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার না করা, অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান না করা এবং ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার না করার কথা রয়েছে।
তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনসহ আন্দোলন অব্যাহত রাখেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত ক্যাডারদের হামলায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়।
সূত্র: যুগান্তর