উচ্চ রক্তচাপ ডেকে আনে হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোক, কী করবেন?

আধুনিক জীবনে কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, বিভিন্ন ব্যস্ততার জাঁতাকলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতেই পারে। অনেক সময়ই পরিস্থিতি এমনই হয়ে ওঠে যে ভিতরের বিপদ বাইরে থেকে আঁচ করা সম্ভব হয় না। হৃদরোগ বা স্ট্রোক ঘনিয়ে আসে। আধুনিক যুগে চিকিৎসকরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাকে ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’ হিসেবেই গণ্য করে থাকেন।
একটা সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তচাপের স্বাভাবিক মাপ হিসেবে ১২০/৮০-কে নির্দিষ্ট করে। পরে জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অঙ্কই তারা বাড়িয়ে ১৩০ করে। সম্প্রতি প্রকাশিত আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ীও এই মাপকে ১৩০ ধরা হয়েছে। তবে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৪০ পর্যন্ত চাপ উঠলেও শঙ্কার কারণ নেই। তার চেয়ে বেশি থাকলে তবেই তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা যাবে।
চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২.৩ গ্রাম সোডিয়াম নেওয়া উচিত। কিন্তু বিভিন্ন দেশের জলবায়ু, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের সব কিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে একেবারে ওই মাপেই সোডিয়াম গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে প্রতি দিন খাবারে যে পরিমাণ লবণ মেশান তার চেয়ে ৫-১০ গ্রাম কমিয়ে ফেলাই ভাল। কাঁচা লবণ তো চলবেই না, তার বদলে অল্প পরিমাণে সোডিয়াম সমৃদ্ধ অন্য খাবার খান।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও মনে রাখা উচিত, তা কিন্তু এল আদতে ওষুধের হাত ধরে। প্রতি রোগীকেই তার শরীরের ধরন ও ওষুধের কার্যক্ষমতা মিলিয়ে ওষুধ দেওয়া হয়। ওষুধ কাজ করার একটা নির্দিষ্ট সময়সীমাও থাকে। কাজেই ওষুধ কখন বন্ধ হবে বা পরিবর্তন হবে কি না তা একমাত্র চিকিৎসকই পরামর্শ দেবেন।
কী কী সাবধানতা
১. বয়স ৩০ পেরলেই নিয়ম করে রক্তচাপ মেপে চলুন। বাড়িতে এই যন্ত্রও কিনেও রাখতে পারেন।
২. ধুমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, লাগামছাড়া চা-কফিতে ‘না’ বলুন।
৩. মাসে এক আধবার দু’-তিন টুকরো পাঁঠার মাংসে কোনও ক্ষতি নেই। ভয় বরং ঝোল অনেকটা খেয়ে ফেলায়।
৪. বিরিয়ানির মাংস খেলে ক্ষতি নেই। তবে ক্ষতি বিরিয়ানি বা ভাত বা মাংসের ঝোলে মাংসের ফ্যাট মিশে থাকে আর আমরা মাংস কম খেয়ে ঝোলটুকুই বেশি খাই।
৪. ডায়েটে থাকুক সবুজ শাকসব্জি ও ফলমূল। জোর দিন পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ফলমূলের উপর।
৫. প্রেশার বাড়ার সঙ্গে শরীরের অন্য কোনও সমস্যা বাড়ছে কি না, নজর রাখুন।
৬. লবণ কম, সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবারেও রাশ টানুন। তবে শরীরে যেটুকু সোডিয়াম প্রয়োজন তা জোগানে যেমন ঘাটতি না থেকে।
৭. ডায়েট থেকে ফ্যাটও একেবারে বাদ নয়। কারণ শর্করা ও প্রোটিনের পাশাপাশি ফ্যাটও দরকার শরীরে। ভিটামিন এ, কে ও ডি-র আত্তীকরণের জন্য শরীরে ফ্যাট থাকা জরুরি।