অভিভাবক হিসেবে সেরা হতে চাইলে যা করবেন

ব্যস্ততার কারণে সন্তানদের সময় দিতে পারেন না কর্মজীবী বাবা-মায়েরা। কাজের চাপ, টেনশনে অনেক সময় বেশি শাসন করে ফেলেন বাড়ির খুদে সদস্যটিকে। পরে তার কাঁদো কাঁদো মুখ মন ভার করে দেয় বাবা-মার।
চিকিতসা বিজ্ঞান বলছে, যে মা বা বাবা ছোটো থেকেই বাচ্চাকে কোলের কাছে নিয়ে বসে গল্পের বই পড়েন বা বই পড়ানোর অভ্যাস করেন, তিনি কিন্তু ভবিষ্যতে সন্তানের খুব কাছের একজন হয়ে ওঠেন। আর এতে দুরন্তপণাও অনেক কমে বাচ্চার। সেই মা কিংবা বাবাকে কাছে পেয়ে খুশি থাকে তারও মন।
বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বাচ্চা পড়তে পারুক কিংবা না পারুক, মা-বাবার সঙ্গে বই পড়ার ছুতোয় আসলে সে অনেকটা সময় কাছে পায় মা-বাবাকে। আর এভাবেই গড়ে ওঠে মা-বাবা-সন্তানের মধ্যে চিরকালের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।
নিয়ম করে বাচ্চাকে নিয়ে পড়তে বসলে লেখাপড়ায় যে ভালো হবে কেবল তা নয়, স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর অন্য সহপাঠীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারবে সহজেই।
এ ধরনের কাজ করলে মা-বাবা ভবিষ্যতে তার সন্তানের খুব কাছের একজন হয়ে উঠতে পারবেন। শিখতে পারবেন, কীভাবে ভালো অভিভাবক হওয়া যায়।
এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি বড়ো শহরের প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মায়ের কাছ এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন, তারা কতটা সময় বাচ্চাকে নিয়ে বই পড়তে বসেন বা আদৌ বসেন কিনা।
দুই বছর পর তাদের কাছে আবার জানতে চাওয়া হয়, সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে বাচ্চার ওপর তারা কতটা শারীরিক এবং মানসিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
সমীক্ষা বলছে, বাচ্চার এক বছর বয়সে থেকেই তাকে নিয়ে বই পড়লে তার তিন বছর বয়সে খুব ভালো অভিভাবক হবেন আপনি। তিন বছর বয়স থেকে এই অভ্যাস করলে ফল পাবেন বাচ্চার পাঁচ বছরে। অর্থাৎ আর পাঁচজন মা কিংবা বাবার মতো ততটাও কঠোর হবেন না আপনি।
তাই যেসব মা ছোটো থেকেই বাচ্চাকে নিয়ে একসঙ্গে পড়তে বসেন, মায়ের সাহচর্যে সেই সব সন্তান অনেক নম্র, শান্ত হয়। আর মা-বাবাও সন্তান সত্যি সত্যিই সামলান কঠোরে-কোমলে।