অবশেষে বুধবার থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শুরু

সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এয়ারলাইনস বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
এদিকে সোমবারের পর মঙ্গলবারও সকাল থেকেই সৌদি আরবের বিমান টিকেটের দাবিতে রাজধানীর কাওরানবাজারে বিক্ষোভ করছেন প্রবাসীরা। ফলে সেখানকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি ফেরত প্রবাসীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে যেতে না পারলে তাদের চাকরি হারাতে হবে।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানকে সপ্তাহে আটটি কমার্শিয়াল ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মাম এই তিনটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে বাংলাদেশ বিমান। অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইন্সও বাংলাদেশের কাছে যতগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইবে তার অনুমতি দেয়া হবে।
জটিলতা শুরু হয়েছে যখন সৌদি সরকার হঠাৎ করেই ঘোষণা দিয়েছে যে শ্রমিকদের সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে সৌদি আরবে ফিরতে হবে।
মহামারির কারণে মার্চের শেষের দিকে সৌদি আরবের সাথে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক দেশে এসে আর ফিরতে পারেননি।
অনেক নতুন শ্রমিক রয়েছেন যাদের বৈধ পাসপোর্ট, আহকামা বা সৌদি আরবে কাজের অনুমতিপত্র এবং বিমান টিকেট থাকা সত্ত্বেও তারা যেতে পারেননি।
অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা যাওয়ার পথে। এদের সংখ্যা দুই লাখের মতো। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিকের গন্তব্য সৌদি আরব। তাদেরকে এমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সৌদি আরবে যেতে বলা ছাড়াও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে সৌদি আরবের সাথে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর একটা ঘোষণা এসেছিল সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও সৌদি সরকারের শর্ত সাপেক্ষে ফ্লাইট আংশিকভাবে চালু করতে চেয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরবের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি বাংলাদেশ বিমানকে দেয়নি। এরপর বাংলাদেশও সৌদি এয়ারের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি বাতিল করে দেয়। অবশেষে জটিলতা নিরসন হয়ে গেছে।