সৌদি আরব প্রতিনিধি ১৭ নভেম্বর ২০২১, ১৫:১১
বিভিন্ন দেশ থেকে আবেদনকারী প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, ধর্মপ্রচারকসহ ২৭ জনকে প্রথম ধাপে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আরব নিউজ ও খালিজ টাইমস।
তালিকায় আছেন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি মুস্তাফা সেরিক, ইরাকি শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ সালেহ, কার্ডিয়াক সার্জন ফারুক ওয়েইদা, নিউরো সার্জন ইমাদ উদ্দিন নাজেহ এবং কিডনি বিশেষজ্ঞ খালেদ হামাবিসহ ২৭ আবেদনকারী।
তেল নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ‘ভিশন-২০৩০’ প্রনয়ন করেছে সৌদি আরব। আর সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দক্ষ ও চৌকস পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে চায় দেশটি।
সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, আইন, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ও মেধাবীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।
আবেদনের নিয়ম ও শর্ত
আবেদনকারী বা তার আইনি প্রতিনিধি সৌদি আরবের সিভিল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ বা দেশটির প্রতিনিধির কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো গ্রহণ, পর্যালোচনা এবং নিবন্ধন করার সব দায়িত্ব পালন করে দেশটির সিভিল অ্যাফেয়ার্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এজেন্সি৷
তিন সদস্যের একটি কমিটি যেসব তথ্য যাচাই করবে:
* আবেদনকারীকে অবশ্যই বৈধ উপায়ে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে এবং একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে যার মাধ্যমে তিনি কোনো বিধিনিষেধ বা শর্ত ছাড়াই তার নিজ দেশে ফিরতে পারবেন।
* নিজ খরচে দেশটির বসবাসের অনুমতি বা রেসিডেন্সি পারমিটের আওতায় অন্তত ১০ বছর সৌদি আরবে থাকতে হবে।
* দেশের প্রয়োজনীয় একটি পেশায় কাজ করতে হবে।
আবেদনকারীর তথ্য দেয়ার পর কমিটি তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আবেদনটি মূল্যায়ন করবেন। এখানে মোট ৩৩ পয়েন্ট ভাগ করা আছে।
* আবেদনকারী অন্তত ১০ বছর সৌদিতে অবস্থান করলে ১০ পয়েন্ট স্কোর হবে।
* আবেদনকারী যদি দেশটির প্রয়োজন সাপেক্ষে বিজ্ঞানের কোনো শাখায় পারদর্শী হন তাহলে তিনি এখান থেকে সবোর্চ্চ ১৩ পয়েন্ট পেতে পারেন। (শুধুমাত্র একটা বেছে নিতে হবে)।
* মেডিসিন বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় ডক্টরেট ডিগ্রি থাকলে স্কোর হবে ১৩ পয়েন্ট।
* বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় ডক্টরেট ডিগ্রি- ১০ পয়েন্ট।
* মাস্টার্স ডিগ্রি- ৮ পয়েন্ট।
* ব্যাচেলর ডিগ্রি- ৫ পয়েন্ট।
* পারিবারিক বন্ধন, অর্থাৎ আবেদনকারীর সৌদিতে কোনো আত্মীয় রয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পাওয়া যাবে।
* বাবা সৌদি নাগরিক হলে ৩ পয়েন্ট।
* বাবা-মা দু’জনেই সৌদি নাগরিক হলে ৩ পয়েন্ট।
* শুধু মা সৌদি নাগরিক হলে ২ পয়েন্ট।
* যদি স্ত্রী এবং শ্বশুর সৌদি নাগরিক হয় তাহলে ৩ পয়েন্ট।
* যদি শুধু স্ত্রী সৌদি নাগরিক হন তাহলে ১ পয়েন্ট।
* আবেদনকারীর দুইজনের বেশি সৌদি সন্তান ও ভাই থাকলে তাহলে ২ পয়েন্ট বরাদ্দ হয়। তবে দুইয়ের বেশি না থাকলে ১ পয়েন্ট বরাদ্দ হয়।
যদি আবেদনকারী ন্যূনতম স্কোর হিসেবে ২৩ পয়েন্ট পান, কমিটি আবেদনটি আরও পর্যালোচনার সুপারিশ করে।
এর মধ্যে আবেদন জমা দেয়ার বাকি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হয় এবং চূড়ান্ত সুপারিশ জারি করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়।
এরপর প্রয়োজনীয় সনদ, স্বাস্থ্য রিপোর্ট, সম্পদের হিসাব, ধর্ম/রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যাখ্যাসহ এই আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
বৈবাহিক ও জন্মসূত্রে
কোনো ব্যক্তি সৌদি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে তার স্ত্রীকেও সৌদি নাগরিকত্ব নিতে হবে। এরপরে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
তবে ওই ব্যক্তি চাইলে স্ত্রীর নাগরিকত্বের জন্য পরে আলাদা দরখাস্ত করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে তাদের সন্তান যদি সৌদি আরবে বসবাস করেন তাহলে ওই সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তাকে নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে হবে। তার আগ পর্যন্ত তিনি সৌদি আরবে থাকার সুযোগ পাবেন।
তবে কোনো বিদেশি নারী যদি সৌদি পুরুষকে বিয়ে করেন তাহলে তিনি তার স্বামীর দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।
অন্যদিকে সৌদি নারী কোনো ভিনদেশি পুরুষকে বিয়ে করলে তিনি চাইলে তার সৌদি নাগরিকত্ব নিয়েই থাকতে পারবেন।
তিনি যদি তার স্বামীর দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন তাহলে স্বামীর মৃত্যুর পর বা বিচ্ছেদের পর তিনি চাইলে তার সৌদি নাগরিকত্ব ফিরে পেতে পারেন।
এই প্রক্রিয়ায় কেউ যদি ভুয়া কাগজপত্র বা মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নেন, তাহলে তাদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
একজন সৌদি পুরুষ বিদেশি নারীকে বিয়ে করার পর ওই নারী যদি স্বেচ্ছায় সৌদি নাগরিকত্ব নিতে চান, তবে তাকে কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে নাগরিকত্ব দেয়া হয়।
* যদি তাদের বিয়ের নথিপত্র থাকে।
* যদি তিনি তার প্রকৃত জাতীয়তা ত্যাগের ঘোষণা দেন।
* বিদেশি নাগরিককে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মানা।
* আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড না থাকা।
* আবেদনকারীকে অবশ্যই দেশটিতে বসবাস করতে হবে।
* বিয়ে অন্তত ৫ বছর স্থায়ী হতে হবে।
* যদি বিয়ের পর চার বছর অতিবাহিত হয়ে যায় এবং কোনো সন্তান না হয়, তাহলে নিচের পয়েন্টগুলো থেকে স্কোর করা যেতে পারে।
* যদি তার কোনো ভাই বা বোন সৌদি নাগরিক হন।
* যদি তিনি সৌদি আরবেই জন্মগ্রহণ করেন।
* তার স্বামী যদি আত্মীয়দের একজন হয়।
* স্বামী যদি একজন পেশাদার যেমন ডাক্তার বা প্রকৌশলী হন।
* যদি তার এবং তার স্বামীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য পাঁচ বছরের বেশি না হয়।
* নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই যদি বিদেশি নারী বিধবা হয়ে যান, তারপরও তার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে বলা হচ্ছে নতুন সৌদি নাগরিকত্ব আইনে।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com