shopner bd
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩২
×

রিয়াদে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

  নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:১৩

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রিয়াদ ক্যাম্পাসে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

মহান বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বাংলাদেশ কারিকুলাম), রিয়াদ সৌদি আরব দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করে বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতা। সকালে বিদ্যালয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ দূতাবাসের অস্থায়ী স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে। ক্যাম্পাসে সকাল ০৭: ০১ মিনিটে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদের সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ও কাউন্সেলর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এসএম রাকিবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, সিগনেটরী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হক, বঙ্গবন্ধু ফাইন্ডেশন রিয়াদ প্রাদেশিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান পলাশ, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (আওয়ামীলীগ)-এর সহ সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মাতব্বর সহ আওয়ামী পরিবারের বেশ গণ্যমান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষিকা মিসেস আসমা জাহানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলাম শিক্ষার সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আনিসুর রহমান। শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ রুবেল মিয়া, গার্হস্থ্য অর্থনীতির প্রভাষক ফারজানা আফনান, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক আক্তার জাহান প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্যের শুরুতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করার পাশপাশি সকল যুদ্ধাহত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জেল হত্যারও দ্রুত বিচার কার্যকর করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদ বিজয়ের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহিদদের বিনম্র চিত্তে স্মরণ করেন। তিনি জাতি হিসেবে কৃতজ্ঞতা এবং অকৃতজ্ঞতার প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, একটা জাতি কতটুকু অকৃতজ্ঞ হলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বাঙালি জাতির স্বপ্ন দ্রষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারে? তিনি জাতির পিতার পলাতক সকল খুনিদেরও দেশে ফিরিয়ে দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। যাদের কল্যাণে আমাদের দেশ আজ বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে, তাদের সে ঋণ কখনো পরিশোধ করার মত নয়। তিনি আগামীর বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত শপথ বাণীও উচ্চারণ করান। তিনি প্রধানমন্ত্রী সুরে দৃঢ় চিত্তে ঘোষণা করেন “শহিদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না।”

প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ও কাউন্সেলর এস এম রাকিবুল্লাহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশপাশি দেশ গঠনে স্বস্ব অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে এসে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশপাশি বলেন, এই দিবসটি যেমনিভাবে আমাদের কাছে আনন্দের তেমনি বেদনারও বটে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই বিজয়। শুধু তাই নয়, কিছু বিপদগামী সেনাসদস্য একসময় জাতির পিতাকে হত্যা করতেও কুণ্ঠিত হয় নি। তিনি আরও বলেন, সূর্য প্রতিদিনই উঠে, তবে আমাদের বিজয়ের এইদিনে সূর্য ছিল অত্যুজ্জ্বল। আমাদের এই বিজয়কে সমুন্নত রাখতে সবাইকে আত্মপ্রত্যয়ে বলিয়ান হওয়ার আহ্বান জানান। আমরা জাতি হিসেবে একটা গর্বিত জাতি, আমাদের আছে ৫২,৬৯, ৭০ এবং বিজয় ছিনিয়ে আনা ১৯৭১।
 
আমাদের দেশ সম্পর্কে বিজয়ের অব্যবহিত পরে ১৯৭৩-এ হেনরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদকে মিথ্যা প্রমান করে সদর্পে এগিয়ে যাচ্ছি উন্নত বিশ্বের দিকে। আমাদের আরো গর্বের বিষয় হচ্ছে, যখন শুনি লাল-সবুজের পতাকা খচিত পাসপোর্ট নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী নাসার বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে। শুধু তাই নয়, পবিত্র ক্বাবা শরীফের ক্যালিওগ্রাফারও একজন গর্বিত বাংলাদেশি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিগনেটরী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম বিজয়ের সুফল সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে চারমূলনীতি বাস্তবায়নেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হক বলেন, পঞ্চাশ বছরে আমাদের দেশ অনেক অগ্রসর হয়েছে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় চিত্ততার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি হানাদারের প্রেতাত্মাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রিয়াদ প্রাদেশিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুসসালাম শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখার জন্য সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরপরই বিদ্যালয়ের খুদে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন অতিথিবৃন্দ। খুদে সাংবাদিক রাইহান মোহাম্মদ মোস্তাক প্রধান অতিথির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে বীর বাঙালি যুদ্ধ করে যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল; সে প্রত্যাশা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তরে প্রধান অতিথি বলেন, আলহামদুল্লিাহ আমাদের প্রাপ্তি অনেক। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আমরা অনেক যোগ্য নেতৃত্ব পেয়েছি। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সোনার বাংলা। আমরা এখন আর কারো অধীন নয়। আমরা এগিয়ে চলছি উন্নত বিশ্বের দিকে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাব ইনশাহ আল্লাহ। রাইহান মোস্তাকের আরেকটি সম্পূরক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের সবাইকে স্বস্ব অবস্থান থেকে সোনার মানুষ হতে হবে।

খুদে সাংবাদিক নীরব সিকদার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদের কাছে জানতে চান, বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আশানুরূপ স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছি। আমরা একবিংশ শতাব্দীতে উন্নয়নশীল দেশের অনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছি। ইনশাহ আল্লাহ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৯৪১সাল নাগাদ উন্নত বিশ্বের কাতারে শামিল হব। এফ জে লুবাবার এক প্রশ্নের জবাবে পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমরা তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ মিথ্যা প্রমান করে আমরা সদর্পে এগিয়ে চলছি উন্নত বিশ্বের দিকে। আমাদের লক্ষ্য অটুট; গন্তব্য সুনির্ধারিত, জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

আসমা আইয়ুবের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যালয়ের সিগনেটরী মহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার মতে বিশাল অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব না হলেও আমাদের অর্জনও নেহায়েত কম নয়। আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে অচিরেই আমাদের টার্গেট পূর্ণ করতে পারবো ইনশাহ আল্লাহ। এহসানুল রাফিদ আদিবের এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রিয়াদ প্রাদেশিক কমিটির সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে তার
গতিশীল নেতৃত্বে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাব। কারণ তার পরিবারে কোন অসৎ ব্যক্তি  নাই।

রাইহান মোহাম্মদ মোস্তাকের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ মোঃ আফজাল হোসেন বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। মেট্টে রেল প্রকল্প, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু, কর্ণফুলি ট্যানেলসহ বাংলাদেশ অনেকগুলো উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের উন্নয়নের ধারা অব্যহত থাকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

পরে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন, মহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। পুরো অনুষ্ঠানের দৃশ্য ধারণ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনীম মোহাম্মদ মোস্তাক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।