স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১৫ আগস্ট ২০২২, ২৩:৪৩
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রিয়াদ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকালে বিদ্যালয় আঙিনায় বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ীভেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন প্রবাহের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও তার ওপর শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সকাল আটটায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও ১৫ আগস্টে মর্মান্তিক এবং নৃশংস হত্যা যজ্ঞে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোহাম্মদ সোহাইব, আবুল বাশার ও আবুল হাসনাত প্রমুখ।
বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহিয়া জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আজমাইন আনান।
শোকদিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আসিফ সাদিক।
শিক্ষকমন্ডলির পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মিসেস আক্তার জাহান ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সরোয়ার জামান।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী সকল শহিদদের। তাঁর যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনিদের ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো দাবি করেন, যে সকল খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের যে কোন মূল্যে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির পূর্ণ রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পুরো জীবন বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য উৎসর্গ করেন। তাঁর যোগ্য সহধর্মিনী হিসেবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসার আত্মত্যাগও জাতি কখনো ভুলতে পারবে না। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা যখন হানাদারের কারাগারে বন্দী তখন তিনি শোকের মাতম না করে স্বীয় সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাতেও কুণ্ঠিত হন নি। যাঁর অবদানে আমরা বাঙালি জাতি আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গর্বিত। সেই জাতির পিতাকে হানাদারের দোসর বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে হত্যা করে জাতির গর্বিত ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা আজ তাঁর লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে স্বস্ব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই তাঁর প্রতি যোগ্য স্বপ্ন প্রদর্শন বলে আমি মনে করি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে মোহাম্মদ সোহাইব বলেন, বাঙালির জন্য এই দিনটি শোকে এবং হারানোর। আজকের দিনটি সত্যি কলঙ্কের। স্বাধীনতার মহাস্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর দিন আজ। শুধু বাঙালি জাতির কাছে নয় সমগ্র বিশ^বাসীর কাছে এটি একটি বিষাদের দিন। সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে জাতির পিতাকে তারা নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করে। বিশ্ববাসীর কাছেও এটি জঘন্যতম হত্যাকান্ড হিসেবে পরিচিত।
পরে ১৫ আগস্টের সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাযাত পরিচালনা করেন ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com