ব্রাক্ষণবাড়িয়ার গণমানুষের নেতা ছিলেন হুমায়ুন কবির

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার গণমানুষের নেতা, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপমন্ত্রী এ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুতে সৌদি আরব রিয়াদস্থ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা ঐক্য ফোরমের আয়োজনে মরহুমের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় রিয়াদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে।
ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা ঐক্য ফোরামের যুবনেতা আলী নুর ইসলাম রনির প্রাণঞ্জলের সঞ্চালনায় আনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন- সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ বাছির মিয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব- জাকির হোসেন টিটু, মো. সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মাদ জাকির মিয়া, কাজি কবির হোসেন, আসাদুজ্জামান ভুইঁয়া ইলিয়াছ, আমির হোসেন সাধন, আব্দুল মতিন মোল্লা, আবুল খায়ের, মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন, বাবুল সিকদার, আব্দুল গফুর প্রমুখ।
আরো উপস্থিত ছিলেন- আব্দুল কাদের কাজি বাতেন, মোঃ রমজান হোসেন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম, ছাত্র নেতা মোহাম্মাদ মোকলেছুর রহমান, আব্দুস সোবাহান, ইকবাল হোসেন, মোহাম্মাদ রাকিব উদ্দিন প্রমুখ।
মরহুমের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ব্রাক্ষণবাড়িয়াবাসির গণমানুষের এই নেতা, দলমত নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধানিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তৃর্ণমুল নেতৃত্ব থেকে যার পথ চলা থেকে দেশের আইন প্রনেতার আসনে অধিষ্ঠিত ও উপমন্ত্রীত্ব অর্জনকারী এ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটে মাত্র ৬৭ বছর বয়সে। (১৯৫২-২০১৯) ভারত পাকি স্বাধীন হবার পর থেকে বাংলাদেশ পাকিজান্তাদের যাতা পৃষ্ঠে আবদ্ধ সময়কালের কয়েক বছর পরই ১৯৫২ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার এ কৃতি সন্তান বাক্ষণবাড়িয়ার পৈরতলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
ছাত্রজীবনের উত্তাল যৌবনে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজপথের প্রতিবাদি নেতা ছিলেন । ১৯৭০ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরশাদ শাষণআমলে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদেন ও পরপর দুইবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদেন, পরবর্তিতে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি টানা তিন মেয়াদে ব্রাক্ষণবাড়িয়া পৌর মেয়র ছিলেন। বর্তমানের পৌর মেয়র মরহুম এ্যাড: হুমায়ুন কবিরের সহধর্মিনী নারায় কবির। মরহুমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার মেয়ে এলিন কবির যুক্তরাষ্টের প্রবাসী।
গত ২৭ অক্টোবার ২০১৯ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মরহুমের স্মরণে দেশ-বিদেশে ব্রাক্ষণবাড়িয়াবাসী ধারাবাহিক স্মরণ সভা, শোক সভা ও দোয়া মাহফিল করে যাচ্ছেন। প্রবাসী ব্রাক্ষণবাড়িয়াবাসিও সেই ধারাবহিকতায় রিয়াদে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলসহ মরহুমের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন।
মরহুমকে স্মরণ করে ব্রাক্ষণবাড়িয়া ঐক্য ফোরামের নেতারা বলেন- মরহুম হুমায়ুন কবির ছিলেন গণমানুষের নেতা। সমাজের দরিদ্র, নিপিড়িত, অসহায় মানুষকে বিনামুল্যে আইনি সহায়তা দিতেন। শিক্ষাবান্ধব এই নেতা অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পৌর চেয়ারম্যানসহ দুইবার সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। উপমন্ত্রী হোন, সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ছিলেন ন্যায় বিচারক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিমুক্ত এই নেতার কার্যালয় ছিল সকল পেশা শ্রেণির মানুষের সম্মিলনের স্থান। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ইতিহাসে তার নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ও তার সহধর্মিনী আপদমস্তক রাজনীতিবিদ।
আওয়ামী লীগের মনোনিত মেয়র হিসাবে বর্তমানে মরহুমের স্ত্রী নারায়ে কবির ব্রাক্ষণবাড়িয়া পৌর মেয়র হিসাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
মরহুমের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের আলোচনায় বক্তারা তাকে এভাবে স্মরণ করেন। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণ তাকে আজীবন স্মরণ করবেন। তার চলে যাওযায় ব্রাক্ষণবাড়িয়াবাসী একজন রাজনৈতিক অভিভাবক হারালেন।
শোক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মো. নজরুল ইসলাম, জামসেদ রানা, এস এম সওদাগার, সোহরাব হোসেন, ইমরাণ হোসেন, রাকিব হোসেন, মোহাম্মাদ আলম প্রমুখ।
শোক সভার দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা নাছির হোসেন।