প্রথম দিনেই অলআউট বাংলাদেশ

৮৩তম ওভারের শাহিন শাহ আফ্রিদির পঞ্চম বলটা ভয়ে ভয়ে ডিফেন্স করেন আবু জায়েদ রাহি। বলটা কোনরকম ক্রিজ থেকে বেরিয়ে মিড অনে যায়। এরমধ্যেই এবাদত হোসেনের সঙ্গে বিটুইন দ্যা উইকেটে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়। কিন্তু তা রান আউটের সুযোগ সেভাবে তৈরি করছে না দেখে মিড অনের ফিল্ডার মোহাম্মদ আব্বাস মোটেও তাড়াহুড়ো করলেন না। বলটা আরামসে হাতে তুলে নিয়ে থ্রো করলেন। কিন্তু রাহি পপিং ক্রিজটা যেনো খুঁজেই পেলেন না। আলসভাবে ঘুরে ব্যাট ফেলতে ফেলতেই ভেঙে গেলো স্ট্যাম। আর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেলো বাংলাদেশের ইনিংস, সঙ্গে দিনের খেলাও।
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে ২৩৩ রানেই গুড়িয়ে গেল টাইগাররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন।
এর আগে রাওলপিন্ডিতে টস জিতে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি পেসারদের তোপের মুখে খেই হারান দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সাইফ হাসান। অভিষেক ম্যাচে সাইফকে শূন্য রানে ফেরান শাহীন আফ্রিদি। মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে তামিম ফেরেন ৩ রানে।
এরপর অধিনায়ক মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩০ রানে মুমিনুল ফিরে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি গড়েন শান্ত। দুজন মিলে দলকে লড়াইয়ে ফেরানের চেষ্টা করেন। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
শেষ বিকেলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ছয় নম্বরে মোহাম্মদ মিঠুন। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। শুধু সঙ্গ দিয়েছেন বললে তার ব্যাটিং শৈলির সঙ্গে অবিচার হবে। তাইজুল দেখাচ্ছিলেন কীভাবে টেস্ট খেলতে হয়।
কিন্তু তার প্রতিরোধ দিন শেষ করতে পারলো না। তার আগেই বিদায় নিলেন ৭২ বলে ২৪ রান করে। তাইজুলের পর বিদায় নেন ৬৩ করা মিঠুনও। আর শেষ তিনজন ব্যাটসম্যান থেকে আসে মাত্র ১ রান। বাংলাদেশ থামে ২৩৩ রানে।
স্কোর: প্রথম দিন শেষে
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৩৩/১০ (৮২.৫) শান্ত ৪৪, মুমিনুল ৩০, মাহমুদুল্লাহ ২৫, মিঠুন ৬৩, লিটন ৩৩; শাহীন আফ্রিদি ৪/৫৩, আব্বাস ২/১৯, হারিস সোহেল ২/১১।