নাঈম ম্যাজিকে সমানে সমান বাংলাদেশ

শনিবার মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনে বাংলাদেশের চার বোলারের মধ্যে নাঈম হাসান একাই ৩৬ ওভার বোলিং করেছেন। এর মধ্যে টানা স্পেলে করেছেন ৩২ ওভার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ চার উইকেট নিয়ে দিনের সফল বোলারও তিনি। তার বলে দুটি ক্যাচ মিস না হলে উইকেট আরও বাড়তে পারত। দিনশেষে ১৯ বছর বয়সী নাঈম জানালেন, দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করতে তার কোনো সমস্যাই হয়নি। আর ভালো জায়গায় বল ফেলানোর কারণেই তিনি সফল হয়েছেন বলে মনে করছেন।
নাঈমের বোলিং স্পেল ছিল যত বড়, সংবাদ সম্মেলনে তার উত্তরগুলো ছিল ততটাই সংক্ষিপ্ত। কাল তিনি বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল শুধু এক জায়গায় বোলিং করা। আমাদের স্পিনারদের গতির বৈচিত্র্য দরকার। আমরা চেষ্টা করি এক জায়গায় টানা বোলিং করে যেতে।’ স্পিনার হলেও এত লম্বা স্পেলে বোলিং করা সবার জন্যই কঠিন। নাঈমের অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেই অভ্যাস হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের সর্বশেষ দুই ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়েছেন এই অফ-স্পিনার।
দারুণ পারফরম্যান্সের কারণেই মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে একাদশে টিকে গেছেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘অভ্যাসটা (লম্বা স্পেলে বল করা) আমার জাতীয় লিগ থেকেই আছে। ধৈর্য ধরে এক জায়গায় বোলিং করলে সফলতা পাওয়া যায়।’ মিরপুরের উইকেট নিয়ে নাঈম বলেন, ‘উইকেট নিয়ে আমাদের তেমন আলোচনা হয়নি। যেমনই উইকেট হোক, স্পিনারদের লক্ষ্য থাকে ধারাবাহিকতা রেখে রান কম দেয়া।’
সকিব আল হাসান না থাকলে একজন বোলার এমনিতেই কমে যায়। এছাড়া অভিজ্ঞ সাকিব দলে থাকলে ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পান অন্যরা। সাকিবের অনুপস্থিতিতে কাজটা কঠিন কি না জানতে চাইলে নাঈম বলেন, ‘যখনই বল হাতে পাই তখনই আমাদের দায়িত্ব হয়ে যায় ভালো বোলিং করা। সাকিব ভাই থাকলে তো আমাদের জন্য সব সময়ই ভালো হয়। তবে চাপ বলতে কিছু নেই। এখন আমরা দু’জন চেষ্টা করছি।’
প্রথমদিনে বাংলাদেশ ছয় উইকেট নিতে পেরেছে। জিম্বাবুয়ের রান ২২৮। শেষবেলায় সেঞ্চুরিয়ান ক্রেগ আরভিনকে আউট করার কারণেই একটু এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। কিন্তু আজ জিম্বাবুয়ে বড় কোনো জুটি গড়লে সেটা স্বাগতিকদের পিছিয়ে দেবে। সেঞ্চুরিয়ান আরভিনকে যথার্থ সময় আউট করেও খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন নাঈম। ম্যাচের আগে ভিডিওতে আরভিনের দুর্বলতাগুলো দেখেছিলেন তিনি। সেভাবেই বোলিং করে সফল হয়েছেন এই অফ-স্পিনার। নাঈম বলেন, ‘আমাদের ভিডিও বিশ্লেষণ দেখানো হয়। সেখানে আরভিনের দুর্বলতাগুলো দেখেছি। সেভাবেই বোলিং করার চেষ্টা করে সফল হয়েছি।’
স্কোর কার্ড
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
মাসভাউরে ক ও ব নাঈম ৬৪ ১৫২ ৯ ০
কাসুজা ক নাঈম ব আবু জায়েদ ২ ২৪ ০ ০
আরভিন ব নাঈম ১০৭ ২২৭ ১৩ ০
টেলর ব নাঈম ১০ ১১ ১ ০
সিকান্দার ক লিটন ব নাঈম ১৮ ৬২ ৩ ০
মারুমা এলবিডব্লু ব আবু জায়েদ ৭ ৩৫ ১ ০
চাকাবভা ব্যাটিং ৯ ২৫ ১ ০
তিরিপানো ব্যাটিং ০ ৪ ০ ০
অতিরিক্ত ১১
মোট (৬ উইকেটে, ৯০ ওভারে) ২২৮
উইকেট পতন : ১/৭, ২/১১৮, ৩/১৩৪, ৪/১৭৪, ৫/১৯৯, ৬/২২৬।
বোলিং : ইবাদত হোসেন ১৭-৮-২৬-০, আবু জায়েদ ১৬-৪-৫১-২, নাঈম হাসান ৩৬-৮-৬৮-৪, তাইজুল ইসলাম ২১-১-৭৫-০।