মুমিনুল-শান্তর ব্যাটে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ

তামিম ফেরার পর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। খেলছেন ছন্দময় ক্রিকেট। স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিয়ারে ১৪তম ফিফটির দেখা পেয়ে গেছেন পয়েট অব ডায়নামো। তবে অধিনায়ক হিসেবে এটি তার প্রথম ফিফটি।
এখানেই থেমে যাননি মুমিনুল। আছেন সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। রোববার দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ২৪০ রান করেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক ৭৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তাকে যোগ্য সমর্থন দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ৩২ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন। স্বভাবতই দ্বিতীয় দিনটি নিজেদের করে নিয়েছেন টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৫ রানে পিছিয়ে তারা।
তৃতীয় দিন মুমিনুল-মুশফিকের দিকে তাকিয়ে থাকবেন স্বাগতিকরা। দৃষ্টি থাকবে মোহাম্মদ মিঠুন ও লিটন দাসের প্রতি। তারা সামর্থের প্রমাণ দিতে পারলে বড় ধরনের লিড পাবেন রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। সূচনালগ্নেই ফিরে আসেন সাইফ হাসান। তাকে সাজঘরে ফেরত পাঠান ভিক্টর নায়াউচি। পরে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। একপর্যায়ে জমে যায় তাদের জুটি।
ফলে জিম্বাবুয়ে বোলারদের শাসাতে শুরু করেন তামিম-শান্ত। তাতে হু হু করে বাড়ে বাংলাদেশের রান। দুজনই এগিয়ে যান ফিফটির পথে। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে সাজঘরে ফেরেন তামিম। ফেরার আগে ৭ চারে ৪১ রান করেন তিনি। তাতে শান্তর সঙ্গে ড্যাশিং ওপেনারের ভাঙে ৭৮ রানের প্রতিরোধ গড়া জুটি।
এরপর অধিনায়ক মুমিনুল হককে নিয়ে খেলা ধরেন শান্ত। ক্রিজে সেট হয়ে যান তিনি। ব্যাটে ছোটান রানের ফোয়ারা। অপর প্রান্ত থেকে সমানতালে সঙ্গ পান মুমিনুলের। দুজনই দ্রুত রান তুলেন। পথিমধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারে ফিফটি তুলে নেন শান্ত। হাঁটছিলেন ফার্স্ট সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু আচমকা থমকে যান তিনি। চার্লটন টিসুমার বলে উইকেটের পেছনে রেগিস চাকাভার গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ফেরার আগে ৭ চারে ৭১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। এতে বিচ্ছিন্ন হয় ৭৪ রানের জোট।
জিম্বাবুয়েকে যত দ্রুত সম্ভব গুটিয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সকালে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে সফল হন স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ২৬৫ রানে অলআউট করেন তারা। প্রথম দিনের ৬ উইকেটে ২২৮ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন রেগিস চাকাভা ও ডোনাল্ড তিরিপানো। তবে নিজেদের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তুলতে পারেননি তারা। ভূমিকাতেই তিরিপানোকে ফিরিয়ে দেন আবু জায়েদ রাহী। সেই জের না কাটতেই এন্সলে এনদিলোভুকে বিদায় করেন তিনি।
পরক্ষণেই চার্লটন টিসুমাকে তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। ফলে অলআউট হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ের। কিন্তু তা দীর্ঘায়িত করেন চাকাভা। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়েই সেই শিবিরে শেষ পেরেকটি ঠুকেন তাইজুল। সংগ্রামী চাকাভাবে ফিরিয়ে তাদের মুড়িয়ে দেন তিনি। জিম্বাবুইয়ান উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ৩ চারে করেন ৩০ রান। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার নাঈম হাসান ও আবু জায়েদ। দুজনই শিকার করেন ৪টি করে উইকেট। তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন তাইজুল। তিনি ঝুলিতে ভরেন ২ উইকেট।
স্কোর কার্ড
জিম্বাবুয়ে ইনিংস
(আগের দিন ২২৮/৬, চাকাবা ৯*, ত্রিপানো ০*) :
প্রিন্স মাসভাউরি ক এন্ড ব নাইম হাসান ৬৪
কেভিন কাসুজা ক নাইম ব আবু জায়েদ ২
ক্রেইগ আরভিন বোল্ড ব নাইম ১০৭
ব্রেন্ডন টেলর বোল্ড ব নাইম ১০
সিকান্দার রাজা ক লিটন ব নাইম ১৮
তিমিসেন মারুমা এলবিডব্লু ব আবু জায়েদ ৭
রেগিস চাকাবা ক নাইম ব তাইজুল ৩০
ডোনাল্ড ত্রিপানো ক লিটন ব আবু জায়েদ ৮
আইনসলে এনডলোভু এলবিডব্লু ব আবু জায়েদ ০
চার্লটন টিসুমা এলবিডব্লু ব তাইজুল ০
ভিক্টর নায়ুচি অপরাজিত ৬
অতিরিক্ত (বা-৪, লে বা-৪, ও-৫) ১৩
মোট (অলআউট, ১০৬.৩ ওভার) ২৬৫
উইকেট পতন : ১/৭ (কাসুজা), ২/১১৮ (মাসভাউরি), ৩/১৩৪ (টেইলর), ৪/১৭৪ (রাজা), ৫/১৯৯ (মারুমা), ৬/২২৬ (আরভিন), ৭/২৪০ (ত্রিপানো), ৮/২৪৪ (এনডলোভু), ৯/২৪৫ (টিসুমা), ১০/২৬৫ (চাকাবা)।
বাংলাদেশ বোলিং
এবাদত হোসেন : ১৭-৮-২৬-০ (ও-২),
আবু জায়েদ : ২৪-৬-৭১-৪ (ও-৩),
নাইম হাসান : ৩৮-৯-৭০-৪,
তাইজুল ইসলাম : ২৭.৩-১-৯০-২।
বাংলাদেশ ইনিংস
তামিম ইকবাল ক চাকাবা ব ত্রিপানো ৪১
সাইফ হাসান ক চাকাবা ব নায়ুচি ৮
নাজমুল হোসেন শান্ত ক চাকাবা ব টিসুমা ৭১
মোমিনুল হক অপরাজিত ৭৯
মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৩২
অতিরিক্ত (বা-৪, লে বা-১, নো- ২, ও-২) ৯
মোট (৩ উইকেট, ৭১ ওভার) ২৪০
উইকেট পতন : ১/১৮ (সাইফ), ২/৯৬ (তামিম), ৩/১৭২ (শান্ত)।
জিম্বাবুয়ে বোলিং
ত্রিপানো : ১৫-৩-৪০-১ (ও-১, নো-১),
নায়ুচি : ১৩-২-৪১-১ (ও-১),
রাজা : ২২-১-৭৫-০ (নো-১),
টিসুমা : ১২-০-৪৬-১,
এনডলোভ : ৯-১-৩৩-০।