shopner bd
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২
×

জীবনযুদ্ধে ছুটতে ছুটতে অলিম্পিকে পৌঁছানো এক শরনার্থী

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ৩০ জুলাই ২০২১, ১২:১৪

জীবনযুদ্ধে ছুটতে ছুটতে অলিম্পিকে পৌঁছানো এক শরনার্থী

রিও আসর থেকে শুরু হয়েছিলো অলিম্পিকে রিফিউজি দলের অংশগ্রহন। আইওসির পতাকাতলে এবারও গেমসে খেলছেন দেশহীন ২৫ অ্যাথলেট। যাদের একজন লোকোরো পাউলো আমোতুন। বিগেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চে আসতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে যুদ্ধ, দারিদ্র্যপীড়িত বন্ধুর পথ।

এ দৌড় শুধু অলিম্পিক পদকের জন্য নয়। এ যেন জীবন বাঁচাতে ছুটে চলা। দারিদ্র থেকে মুক্তি আর নিজের পরিচয় ফিরে পাওয়ার জন্য ছোটা। টোকিও অলিম্পিকের দেড় হাজার মিটার অ্যাথলেটিক্সের জন্য যখন প্রস্তুত হচ্ছেন অন্যান্য দেশের অ্যাথলেটরা। তখনও শরনার্থী দলের সদস্য পাওলো আমনতুন অনুশীলনে, প্রতি পদক্ষেপে পেছনে ফেলছেন দু:সহ, যন্ত্রণা আর বিষাদময় সব স্মৃতি। অথচ মাত্র এক যুগ আগেও ছিল তার নিজের একটা ঘর, ছিল পরিচয়ের একখন্ড মানচিত্র। ছিল নিজের দেশ। তবে আজ সবই অতীত। এখন তার পরিচয় শুধুই শরনার্থী অ্যাথলেট।

২০০৬ সালে সুদানের গৃহযুদ্ধে মুছে যায় লোকোরোর আসল পরিচয়। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে হারান বসত ভিটা, গরুর খামার। জীবনযুদ্ধের দৌড় সেখান থেকেই শুরু। সীমান্ত পেরিয়ে ঠাঁই নেন কেনিয়ার কাকুমা রিফিউজি ক্যাম্পে। সেখানেই তিন বছরের মধ্যে বাবা মাকে ফিরে পেয়েছেন। শুধু দেশটাই নিজের হয়নি। 

যখন থেকে শুরু হয়েছে জীবন বাঁচানোর দৌড়, তখন থেকেই নিজের প্রতিভা সম্পর্কে জানেন পাওলো লকোরো। তবে সে দৌড় যে তাকে দ্যা গ্রেটেস্ট শো আর্থ পর্যন্ত পৌছাবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি অলিম্পিক রিফিউজি টিমের এই সদস্য। 

লোকোরো বলেন, 'জীবন বাঁচাতে যখন বাড়ি থেকে ছুটে পালালাম। তখন বুঝলাম, এ কাজে আমার বেশ প্রতিভা আছে। প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার মাধ্যম হিসেবে তাই দৌড়কেই বেছে নিলাম। তবে অলিম্পিকে দৌড়ানোর স্বপ্ন কোনকালেই ছিলোনা।'

কেনিয়ায় আমনতুনের পরাধীন জীবনে মুক্তির বার্তা হয়ে আসে জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থার অলিম্পিক দল গঠনের প্রস্তাব। ক্যাম্পে থাকা প্রায় দুই লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্য থেকে দৌড়ের প্রতিভা দিয়ে সেই দলে জায়গা করে নেন তিনি। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সহযোগিতায় সেখান থেকেই শুরু আমানতুনের অ্যাথলেট জীবন।

এমনকি ক্যাম্পের অনুশীলনের আগে দৌড়াতে যে জুতোর প্রয়োজন, তাও জানা ছিল না লোকোরোর। তিনি বলেন, 'ক্যাম্পের অনুশীলনে নামার আগে আমি জানতাম না, জুতো পরে দৌড়াতে হয়। তারা আমাকে শিখিয়েছে, ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় থাকলে যে কোন কিছুই সম্ভব। আমিও এখন তা বিশ্বাস করি।'

রিও আসর দিয়ে শুরু হয় অলিম্পিকে শরনার্থী অ্যাথলেটদের পথচলা। সেবারের ১০ জনের দলে ছিলেন লোকোরোও। তবে সেখানেই শেষ নয়। দৌড়েছেন ২০১৭ বিশ্ব রিলে, ২০১৮ আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০১৯ দোহা বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে। ছুটেছেন ভ্যালেন্সিয়ায় বিশ্ব হাফ ম্যারাথনেও।

লোকোরোর মতো দেশহীন ২৫ অ্যাথলেট লড়ছেন এবারের টোকিও অলিম্পিকে। দেড় হাজার মিটার অ্যাথলেটিক্সে আমনতুন নামবেন আগামী ৩ আগষ্ট। ১২ স্পোর্টসে শুধু পদকই নয়, পৃথিবীজুড়ে বাস্তুচ্যুতদের চোখে নতুন স্বপ্ন আর আশার বীজ বুনে দেয়ার কাজ করে যাচ্ছেন রিফিউজি অ্যাথলেটরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।