শরীফ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুয়েত ০৯ মে ২০২১, ২২:৪৬
ঈদের কেনাকাটা এখনো জমে উঠেনি শপিংমলগুলো। ক্রেতাশুণ্য মার্কেটগুলো। মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারের দেয়া ১২ ঘন্টা কারফিউ চলছে কুয়েতে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ৫ টার মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার ফলে ক্রেতাশুন্য মার্কেট গুলোতে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। মধ্যপ্রাচ্যে তেল প্রাচুর্যে সেরা অন্যতম দেশ কুয়েত। দেশটিতে স্থানীয় নাগরিকদের চেয়ে তিন গুণ বেশি প্রবাসীরা রয়েছেন।
বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভারাইসের কারণে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ২০২০ সালে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কাছে যখন গোটা বিশ্ব অসহায়, উদ্বিগ্ন ও আর উৎকণ্ঠার মধ্যে অগণিত মানুষ, এই সময়ে কুয়েতে করোনার তাণ্ডবে প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে ব্যবসা-বানিজ্যের অবস্থা। এর পর শত চেষ্টা করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা মোটামুটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা যখন শুরু করছিলেন, ঠিক তখনই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ-এ কারফিউর মত চরম বিধি নিষেধ এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিজ দেশে নিঃস্ব হাতে যাওয়ার মতো অবস্থা অনেক প্রবাসীদের।
সুক আল-ওয়াতানিয়া ও সুক মাসিল মার্কেট। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের অত্যন্ত পছন্দের একটি মার্কেট। এখানে বিক্রেতাদের অধিকাংশ বাংলাদেশী হওয়ার ফলে বাংলাদেশী ক্রেতারাও কেনাকাটা করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। নানা ধরনের সংকটে বিপর্যস্ত ব্যবসা খাত। একটা সময় ক্রেতাদের অগণিত ভীড় ছিল যে মার্কেটটিতে, এখন সেই মার্কেটটি ক্রেতাশুন্য প্রায়।ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকী। এখনো জমে উঠেনি কেনা কাটা।
বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক মাস আগেও মোটামুটি ব্যবসা ভালো চললেও বর্তমানে খুবই খারাপ যাচ্ছে তাদের।
এদিকে সব দোকানে সামান্য কেনাকাটা হলেও রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধ প্রায়। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা চলমান কারফিউ সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত। ফলে আধাবেলা খোলা থাকার কারনে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া দোকান ভাড়া পরিশোধ ও শ্রমিকদের বেতন ভাতা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রবাসী এসব ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যদি কারফিউর সময় আরেকটু শিথিল করা হত; তাহলে হয়তো তাদের বেচাকেনা মোটামুটি ভাল হত। অন্যথায় তাদের নিশ্চিত লোকসান গুনতে হবে। তাছাড়া কুয়েতের, জিলিব সুয়েখ, খাইতান, ফাহাহিল, হাওায়াল্লি, সালমিয়া, ফারওয়ানিয়া, জাহরা ও কুয়েত সিটি সহ অন্যান্য এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা নানা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
উপসাগরীয় এ দেশটির প্রবাসীরা মনে করেন, কুয়েতে করোনা পরস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিশ্চয় এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে গতিশীল হয়ে উঠবে এটাই তাদের একমাত্র প্রত্যাশা।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com